বিকাশ সেভিংস এ টাকা জমান নিরাপদে| Bkash IDLC Savings Details
Deposit Pension Scheme (DPS) আর FDR (Fixed Diposit Reciept) - এই দুইটা শব্দের সাথে আপনি নিশ্চই পরিচিত। টাকা জমানো কিংবা টাকা বৃদ্ধি যাই বলেন না কেন তার জন্য DPS আর FDR বহুল পরিচিত। অনেকক্ষেত্রে FDR এর চেয়ে DPS বেশি জনপ্রিয়, কারন নিম্ন কিংবা মধ্যম আয়ের মানুষেরা তাদের মাসিক আয় থেকে কিছু অংশ প্রতি মাসে DPS এর মাধ্যমে জমা করতে পারে। এবং নির্দিষ্ট মেয়াদকাল শেষে একটা মোটা অংকের টাকা পায় তাও আবার লাভ সহ। ব্যাপার টা অনেক লাভজনক। কিন্তু একবার ভাবুন তো আপনাকে প্রতি মাসে টাকা জমানোর জন্য নিশ্চই আপনাকে ব্যাংকে গিয়ে একাউন্ট খুলতে হবে, স্বশরীরে উপস্থিত হতে হবে, কাগজপাতির ঝামেলা তো আছেই। আবার প্রতি মাসে মাসে নিজ দায়িত্বে ব্যাংকে গিয়ে টাকা দিয়ে আসতে হবে। কত ঝামেলার ব্যাপার।
কিন্তু এমন যদি হয় আপনি আপনার মোবাইলের মাধ্যমে কোন কাগজপাতির ঝামেলা ছাড়াই একটি সেভিংস এর জন্য একাউন্ট খুললেন, আবার ব্যাংকে না গিয়েই শুধু মাত্র আপনার টাকা মোবাইল ব্যাংকিং এ ঢুকে রাখলেন আর সেই মোবাইল ব্যাংকিং নির্দিষ্ট তারিখে আপনার টাকা DPS এ পেমেন্ট করে দিলো! তাইলে ব্যাপারটা কেমন হবে? নিশ্চই অনেক সুবিধার! এই আর্টিকেল এ সে বিষয় নিয়েই কথা বলতে যাচ্ছি। Bkash এর নাম তো সবাই শুনেছেন। বাংলাদেশের সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত মোবাইল ব্যাংকিং সার্ভিস বিকাশ।
Bkash নিয়ে এসেছে গ্রাহকদের জন্য এখন মোবাইল থেকে টাকা জমানোর সুবিধা। আপনারা চাইলেই আপনার হাতে থাকা স্মার্টফোন দিয়ে বিকাশ এপ এ মাত্র কয়েক ক্লিকেই একটি সেভিংস একাউন্ট করে নিতে পারবেন। টাকা জমানোর কোন রিস্ক নাই, অর্থাৎ আপনার টাকা মার যাওয়ার কোন রকম সম্ভাবনাই নাই। এটার আরও অনেক সুবিধা আছে। তাই দেরি না করে চলুন বিস্তারিত জেনে নেই। কিভাবে আপনার বিকাশ এপ থেকে একটি সেভিংস একাউন্ট করবেন, কিভাবে টাকা জমাবেন, বিকাশে সেভিংস এর সুবিধাগুলো কি কি বিস্তারিত জানতে পোস্ট টি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।
বিকাশ সেভিংস একাউন্ট কি?
"বিকাশ সেভিংস" মোবাইল ব্যাংকিং সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠান Bkash এর একটি নতুন ফিচার। আপনার যদি একটি বিকাশ একাউন্ট থাকে তবে Bkash এপ ব্যবহার করে কোন কাগজপাতির ঝামেলা ছাড়াই আপনি একটি সেভিংস একাউন্ট করতে পারবেন। বিকাশ থেকে IDLC তে আপনার টাকা জমানো হবে।Bkash এবং IDLC দুটিই অত্যন্ত বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান তাই আপনার টাকা নিরাপদে থাকবে। আপনি যত টাকার মাসিক DPS খুলতে চান, তত টাকা সেট করে দিবেন, আপনার একাউন্ট থেকে অটোমেটিক টাকা IDLC তে চলে যাবে প্রতি মাসের নির্দিষ্ট তারিখে।বিকাশ সেভিংস এ লাভ /ইন্টারেস্ট কেমন?
বিকাশ এ সেভিংস একাউন্ট খোলার আগে অবশ্যই আপনি জানতে চাইবেন যে এখানে লাভ বা ইন্টারেস্ট কেমন! তো সেটা নিয়েই বলা যাক। আপনি এখানে বিভিন্ন মেয়াদে (২,৩,৪ বছর) একাউন্ট খুলতে পারবেন। প্রত্যেক ব্যাংক এই সেভিংস এর জন্য জমানো টাকার উপরে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ লাভ বা ইন্টারেস্ট দিয়ে থাকে। সুতরাং বিকাশ এ সেভিংস এর জন্যও আপনি নির্দিষ্ট পরিমাণ লাভ পাবেন। আপনি যে মেয়াদেই বিকাশে সেভিংস একাউন্ট খুলেন না কেন লাভের হার ৭%। অর্থাৎ আপনার সেভিংস এর মেয়াদ শেষে আপনি মাসিক কিস্তি হারে মোট যত টাকা দিয়েছেন তার উপর ৭% হারে ইন্টারেস্ট বা লাভ পাবেন। নিশচই অনেক আকর্ষণীয় একটা ইন্টারেস্ট রেট এইটা!কিভাবে বিকাশ থেকে IDLC তে টাকা জমাবেন?
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিস্তারিত জানার পর আপনি নিশ্চই এখন একটি একাউন্ট খুলতে চাইবেন। আমি আগেই বলেছি আপনি বিকাশ এপ্স এর মাধ্যমে মাত্র কয়েকটি ক্লিকেই এই একাউন্ট করতে পারবেন আর তার জন্য কোন ঝামেলা হবেনা। তো কিভাবে বিকাশ এপ্স এর মাধ্যমে আপনার সেভিংস একাউন্ট ঘরে বসেই খুলবেন তার প্রক্রিয়া নিচে ধাপে ধাপে তুলে ধরা হলো। বিকাশ এ সেভিংস একাউন্ট খুলতে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন।১। প্রথমে আপনার মোবাইলে বিকাশ এপ ডাউনলোড করুন। বিকাশ এপ ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন - এখানে
২। আপনার বিকাশ একাউন্ট এ লগিন করুন। লগিন করলে নিচের ছবির মতো ইন্টারফেস দেখতে পাবেন। এখান থেকে সেভিংস লেখা ক্লিক করুন [নিচের ছবিতে]
৩। এরপর সময়কাল আর জমার ধরণ সেট করতে হবে। এখানে আপনি কত বছরের জন্য সেভিংস একাউন্ট খুলতে চান সেটা দিতে হবে। আপনার এখানে সেট করা সময় শেষে আপনার একাউন্ট এর মেয়াদ শেষ হবে এবং আপনার ওই সময় ধরে জমানো টাকা লাভসহ বিকাশ একাউন্ট এ অটোমেটিক চলে আসবে। তো এখানে 'সময়কাল নির্বাচন' এ ক্লিক করে ২ বছর, ৩ বছর অথবা ৪ বছর সিলেক্ট করুন। এরপর "জমার ধরন" এ ক্লিক করে 'মাসিক' সিলেক্ট করুন। [নিচের ছবিতে]। তারপর নিচে "পরবর্তী" বাটনে ক্লিক করুন।
৪। তারপর 'জমা একাউন্ট' লেখাতে ক্লিক করে আপনি প্রতি মাসে কত টাকা জমা রাখতে চান সেটা সিলেক্ট করুন। এখানে আপনি প্রতিমাসে ৫০০ থেকে ৩০০০ টাকা পর্যন্ত জমা করতে পারবেন। সিলেক্ট করে নিচে "পরবর্তী" বাটনে ক্লিক করুন।
৫। এরপর "IDLC Finance" লেখাতে ক্লিক করে পরের স্টেপ এ যান। [নিচের ছবিতে]
৬। এরপর আপনার বাবা-মা, স্বামী- স্ত্রী কিংবা ভাই-বোন যে কারো একজন এর এনআইডি/ ভোটার আইডি কার্ড এর নম্বর উপরের বক্স এ দিন, তারপর ওই এনআইডি তে যে জন্ম তারিখ আছে সেটা পরের বক্স এ দিন এবং সব শেষে আপনি যার এনআইডি নম্বর দিয়েছেন, সে আপনার সম্পর্কে কে হয় সেটা সিলেক্ট করে পরবর্তী তে ক্লিক করুন।
এরপর আর কিছু স্টেপ এ ক্লিক করুন তাইলেই আপনার একাউন্ট হয়ে যাবে এবং আপনার মোবাইল নম্বরে একাউন্ট সম্পর্কিত যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এসএমএস এ পেয়ে যাবেন।
বিকাশ সেভিংস এ কত টাকার কিরকম মেয়াদে একাউন্ট খোলা যাবে?
বিকাশ সেভিংস একাউন্ট এ তিন ধরনের মেয়াদকাল আছে। আপনি ২ বছর/ ৩ বছর/ ৪ বছর মেয়াদে একটি বিকাশ সেভিংস একাউন্ট খুলতে পারবেন। প্রতি মাসে ৪ ধরনের মাসিক কিস্তিতে আপনি একাউন্ট খুলতে পারবেন। এই মাসিক কিস্তির পরিমানগুলো হলো- ৫০০ টাকা/ ১০০০ টাকা/ ২০০০ টাকা/ ৩০০০ টাকা। এই চারটি পরিমাণে মাসিক কিস্তিতে আপনি উপরে উল্লিখিত যে কোন পরিমাণ মেয়াদে সেভিংস একাউন্ট বিকাশ এপ এর মাধ্যমে খুলতে পারবেন।বিকাশ সেভিংস একাউন্টে টাকা দিব কিভাবে?
আপনি যদি বিকাশ সেভিংস একাউন্ট করে ফেলন, তবে আপনাকে আলাদা করে টাকা কোথাও দিতে বা ঢুকাতে হবেনা। আপনি যে তারিখে যত টাকার সেভিংস একাউন্ট খুলেছেন প্রতি মাসের ওই তারিখে যে কোন ভাবে আপনার বিকাশ একাউন্টে ওই পরিমাণ টাকা Cash-in করবেন। ব্যাস, কাজ শেষ। মনে রাখবেন আপনি যেদিন একাউন্ট করবেন ওইদিন যত টাকার সেভিংস একাউন্ট করবেন তত টাকা কেটে নিবে। তাই একাউন্ট করার আগে আপনার বিকাশে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা রাখবেন।বিকাশ সেভিংস একাউন্ট চেক করব কিভাবে?
আপনি চাইলে আপনার মোবাইলে যে কোন সময় জমানো টাকার যাবতীয় তথ্যাদি চেক করতে পারবেন। এজন্য আপনার বিকাশ এপ এ লগিন করে "সেভিংস" এ ক্লিক করুন। তাইলে আপনার যে সেভিংস একাউন্ট আছে সেটা দেখতে পাবেন। [নিচের ছবির মতো]এরপর এর উপর ক্লিক করলে আপনি নিচের ছবির মতো পেজ দেখতে পাবেন। এখানে "জমা হিসাব দেখুন" লেখাতে ক্লিক করলে আপনি কোন মাসে কত টাকা জমা দিয়েছেন, আরও কয় মাস টাকা দিতে হবে, কত তারিখ পর আপনার টাকা তুলতে পারবেন তার বিস্তারিত তথ্য পেয়ে যাবেন।
বিকাশ সেভিংস একাউন্ট বন্ধ/ বাতিল করার পদ্ধতি
বিকাশ সেভিংস একাউন্ট খোলা যেমন সহজ, তেমনি বন্ধ করাও কয়েকটা ক্লিক এর ব্যাপার। অনেকসময় হঠাৎ টাকার প্রয়োজন হয়। তখন দেখা যায় বাধ্য হয়েই শখের DPS টা বন্ধ করার প্রয়োজন পড়ে। সেক্ষেত্রে আপনি বিকাশ এর সেভিংস এ গিয়ে উপরের ছবিতে সবার নিচে লেখা "সেভিংস বন্ধ করুন" এ ক্লিক করলে আপনার একাউন্ট বন্ধ হয়ে যাবে এবং জমানো টাকা অটোমেটিক বিকাশ একাউন্টে চলে আসবে।বিকাশ সেভিংস এ কোন মাসের টাকা না দিতে পারলে কি হবে?
আপনি যে তারিখে একাউন্ট খুলবেন, প্রতি মাসের সেই তারিখে আপনার বিকাশ একাউন্ট থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা অটোমেটিক কেটে নিবে। এখন এমন হতে পারে যে ওই তারিখে আপনার একাউন্টে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা নেই বা তার চেয়ে কম আছে। তখন পরবর্তী ৩ দিনের সময় থাকে, এর মধ্যে বিকাশে Cash-in করে নিলে সেভিংস এর টাকা কেটে নেয়। তবে এক্ষেত্রে আপনি উক্ত মাসের ইন্টারেস্ট বা লাভ পাবেন না। তাই উচিত ওই তারিখের আগেই বিকাশে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা ঢুকে রাখা।বিকাশ সেভিংস একাউন্টের বিশেষ সুবিধা সমূহ
বিকাশ সেভিংস একাউন্ট এর বিস্তারিত বর্ণনা দেখেই নিশ্চই বুঝে গেছেন এর সুবিধাগুলো কি। এই সুবিধা গুলো ছাড়াও আরও কিছু সুবিধা আছে। নিচে এগুলো দেওয়া হলো:- একাউন্ট খুলতে কোন কাগজপাতির ঝামেলা নেই। যে কোন সময় কয়েক ক্লিকেই একাউন্ট খোলা যায়।
- বিকাশ সেভিংস একাউন্ট খুলতে কোনরকম ফি দিতে হয়না।
- বিকাশ সেভিংস একাউন্ট এ টাকা জমা দেওয়ার জন্য আপনাকে টাকা নিয়ে কোথাও যেতে হয়না। এমনকি তারিখ ও মনে রাখতে হয়না, অটোমেটিক পেমেন্ট হয়ে যায়।
- আপনি বিকাশে যে সেভিংস করবেন তা একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে অটোমেটিক বিকাশে এসে যাবে। আর সেই টাকা উইথড্র করতে কোনো প্রকার চার্জ লাগবেনা। এটা সবচেয়ে বড় সুবিধা।
- যখন তখন আপনার সেভিংসে জমার তথ্য দেখতে পাবেন।
- জরুরী প্রয়োজনে কয়েক ক্লিকেই আপনার সেভিংস একাউন্ট টি বন্ধ করতে পারবেন এবং টাকা ফেরত পাবেন।
- আপনার টাকা সম্পূর্ণ নিরাপদে, কোনরকম ঝুঁকি ছাড়াই জমা হতে থাকবে।
- লোভনীয় ইন্টারেস্ট রেট (৭%)
কেন ব্যাংক ছেড়ে বিকাশে সেভিংস একাউন্ট করবেন?
উপরের সুবিধা গুলো দেখে নিলে আপনি বুঝতে পারবেন যে ব্যাংক এ গিয়ে টাকা জমানোর চেয়ে বিকাশে টাকা সেভিংস অনেক বেশি সহজ। তাই ব্যাংক ছেড়ে বিকাশে সেভিংস একাউন্ট করে ফেলুন আজই।বিকাশ সেভিংস নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো। যদি কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে অবশ্যই নিচে কমেন্ট বক্স এ অথবা আমাদের ফেসবুক পেজ এ জানান। আরও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট পেতে ফেসবুক পেজ 🚩 টি লাইক করুন।








আজকের আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url